Header Ads

Header ADS
টিটিপি চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টে ওবামার নিবন্ধ
চীন নয়, বিশ্ব বাণিজ্যে নেতৃত্ব দেবে আমেরিকা


গত ছয় বছরে মার্কিন বাণিজ্য খাতে ১ কোটি ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ সুগম করতে আমরা সচেষ্ট হয়েছি। আজ আমাদের অর্থনৈতিক সুযোগের কিছু অংশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে, যা বিশ্বের লাভজনক ও জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বাজারে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের ওইসব এলাকায় বাণিজ্য বৃদ্ধি মার্কিন ব্যবসা এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আর এ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় একটি দেশের গা জ্বলে উঠতে পারে, তা হল চীন।
অবশ্যই চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক সুযোগ তার নিজের আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে নিহিত, এতে সময় নষ্ট করায় কার্পণ্য করছে বেইজিং। যদি আমরা বলি, চীন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে মধ্যস্থতা করছে, যা আমাদের নিজেদের খরচে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান বাজারে প্রভাব ফেলবে, ঝুঁকিতে পড়বে মার্কিন কর্মসংস্থান খাত, ব্যবসা এবং পণ্য-সামগ্রী। চীন এবং ১৫ রাষ্ট্রের নেতারা তাদের চুক্তি, আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদার (আরসিইপি), চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় মিলিত হয়েছিলেন। যে বাণিজ্য চুক্তি সরকার ভর্তুকি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগের মধ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতায় প্রতিরোধ সৃষ্টি করবে না। এটি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ও খোলা চুক্তিও হবে না। এর মাধ্যমে মার্কিন বুদ্ধিজীবীদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত হবে। মার্কিন শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এবং উদ্যোক্তাদের বকেয়া ফেরত পেতে সহায়তা করবে। তবে এর দ্বারা অবশ্যই আমাদের কর্মীদের ও আমাদের পরিবেশের জন্য উচ্চমান-মর্যাদা জোরদার করা হবে না।

সৌভাগ্যবশত এসব প্রতিটি লক্ষ্য পূরণে আমেরিকার নিজস্ব একটি পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চমানের ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথ পেয়েছে। যা একুশ শতকের বাণিজ্যিক পথ সুগম করতে মার্কিন শ্রমিকদের প্রথম সারিতে স্থান দেয়। এ চুক্তি আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। টিপিপি চুক্তি বিশ্বের ১২ দেশের বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব একসঙ্গে এনেছে, যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এটা ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ও স্বাধীন রাখে। বুদ্ধিজীবীদের সম্পত্তি সুরক্ষায় এটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের উদ্ভাবকদের উচিত হবে ঝুঁকি নিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। টিপিপি চুক্তির ফলে শ্রমিক ও ভোক্তাদের অধিকার খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত হবে। অবাধ বাণিজ্য থেকে সব সময়ই উপকার পাওয়া যাবে। এটা ছাড়া এখনকার বিশ্ব অর্থনীতি গতিশীল থাকা অসম্ভব। আমাদের পণ্য বিদেশে বিক্রি করতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।

এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায়ও সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে দেশের বহুজাগতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি লাভবান হবে। যখন খুব কম মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে ভোগে তখন আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদার বৃদ্ধি পায়, তখনই আমরা কৌশলগতভাবে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে অর্থনীতির প্রসার বেঁধে দেই। এই দু’ক্ষেত্রে আমেরিকা শক্তিশালী ও নিরাপদ। এটা এ জন্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে বা সঙ্গে নিয়ে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। এতে এশীয় দেশ চীন নয়, আমরাই এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেব। পাশে বসে তার সমৃদ্ধি উপলব্ধি করব।

আমরা যদি টিপিপি চুক্তি করতে না পারি, তাহলে আমেরিকান পণ্যের উচ্চ শুল্ক এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকবে। এশিয়ার বাজারে আমেরিকার প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বিদেশে রফতানিতে ভীষণ ঝুঁকিতে পড়বে। যদি আমরা টিপিপি করতে না পারি, আমেরিকা জুড়ে নিয়োগকর্তারা একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর অন্য দেশের কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ হারাবেন। আর যখনই আমেরিকান শ্রমিক এবং ব্যবসা একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারবে, তখনই কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।

আমি বুঝতে পারছি যে, বিশ্বের সংশয়বাদ মানুষ বাণিজ্য চুক্তি, যা বিশ্বায়নের পথকে আরও সুগম করবে তা বন্ধে কঠিন করাঘাত করেছে। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করা দেয়াল নির্মাণ করেও আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই এ কঠিন দেয়াল ভেঙে দিয়েছে।

টিপিপি আমাদের কী ক্ষমতা দিয়েছে? সে জন্য আমার প্রশাসন আমাদের বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে কংগ্রেসে দ্বিপক্ষীয় অনুমোদন পাসে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মনে রাখবেন, এটা বেশি দূরে নয়, ততটা কঠিন নয়, সময়ের অপেক্ষামাত্র। টিপিপি অবশ্যই কংগ্রেসে অনুমোদন পাবে। বিশ্ব পরিবর্তিত হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে এর নিয়মনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ চুক্তি পাসে চীনের নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম ধরা উচিত।

বারাক ওবামা- প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র
ভাষান্তর : সালমান রিয়াজ

No comments

Powered by Blogger.