Header Ads

Header ADS
ওয়াশিংটন পোস্টে বারাক ওবামার নিবন্ধ
পরমাণুমুক্ত পৃথিবী গড়তে সংগ্রাম চালিয়ে যাব
    |    
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল, ২০১৬ ০
বিশ্ববিধ্বংসী টনকে টন আণবিক বোমার ব্যবহাররোধে বিশ্বের ৫০টিরও অধিক দেশের নেতারা ওয়াশিংটনে সমবেত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু’দিনব্যাপী চতুর্থ পারমাণবিক

নিরাপত্তা সম্মেলন উপলক্ষে এ বৈঠকে বিশ্ব নেতাদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পারমাণবিক অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নে দেশগুলোর ফাঁকফোকর দূর করাই এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে জানায় হোয়াইট হাউস। এ বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বুধবার ওয়াশিংটন পোস্টে এ নিবন্ধটি লেখেন ওবামা।

বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও হুমকির সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ও তার ব্যবহার। এ জন্যই সাত বছর আগে চেক রিপাবলিকানের রাজধানী প্রাগে (২০১০ সালের ৮ এপ্রিল) পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তাররোধ এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন একটি বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম। এই ভিশন আমার আগের প্রেসিডেন্টের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সব দলের) মধ্যেও গাঁথা ছিল। রোনাল্ড রিগ্যান (যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট) বলেছিলেন, আমরা দেখব পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে কোনো একদিন পরমাণু অস্ত্রের বর্জন হবে।

বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার) ওয়াশিংটনে চতুর্থ পারমাণবিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বের ৫০ টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাব আমি। এখানে পারমাণবিক হুমকি এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। যা হবে প্রাগে প্রতিশ্র“তির থমকে থাকা কাজ বাস্তবায়নের স্তম্ভ। আমরা আমাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করব। বিশ্বের এক ডজনেরও অধিক দেশ ইউরোনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম সম্মৃদ্ধ করতে সফল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে। আমরা আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরালো করতে প্রস্তুত তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাব। চলমান আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকি উপেক্ষা করে আমাদের মিত্রবাহিনী ও অংশীদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিশ্বের এ আবর্জনা ধুয়ে-মুছে সাফ করব। আইএসের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার রুখতে প্রাগের গুরত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোকে সামনে এনে নবউদ্যমে সামনের পানে ছুটে চলার প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত আমরা।

প্রথমত, আমরা পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি বিশ্ব গড়ার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

নতুন স্ট্রাটেজিক আর্মস রিডাকশান (স্টার্ট) চুক্তির বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া। যার মাধ্যমে ১৯৫০ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নিউক্লিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা সর্বনিু পর্যায়ে চলে আসবে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার বজায় রাখবে। আমি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের আলোকে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা হ্রাসকরণে ভূমিকা পালন করেছি। আমিও নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড উন্নয়নে নতুন রীতি প্রস্তুত করেছি এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার সংকীর্ণ করতে পদক্ষেপ নিয়েছি।

দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তি বাস্তবায়নে পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ করে বৈশ্বিক শাসন শক্তিশালীকরণ করছি। আমরা পরমাণু অস্ত্রবিস্তারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায় ঐক্যবদ্ধ হতে সফল হয়েছি। ইরান এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পরমাণু-সশস্ত্র ইরান আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি ছিল। আমরা তাকে চুক্তির মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছি।

তৃতীয়ত, আমরা বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো দাঁড় করেছি যাতে করে বিশ্বের দেশগুলো পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধিতে শান্তির বার্তা বহন করতে পারে। সম্প্র্রতি পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত প্ররোচনা দেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ফলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এসেছে পিয়ংইয়াংয়ের ওপর। তা সত্ত্বেও আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আবারও সীমা লঙ্ঘন করেছে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরোধে কাজ করবে।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে সুউচ্চ বাধাকে টপকাতে বিচক্ষণ হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা নিজেদের নিয়তির দোহাই দেব না, যাতে পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করা অনাবশ্যক হয়ে পড়ে। এমনকি বিশ্বের বাস্তবতার মোকাবেলায় আমাদের ভিশন পূরণে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। (সংক্ষেপে)

ভাষান্তরে : সালমান রিয়াজ

http://www.jugantor.com/ten-horizon/2016/04/01/22270/print

No comments

Powered by Blogger.